ফোনে টেলিপ্রম্পটার অ্যাপ কীভাবে ব্যবহার করবেন: প্রথম স্ক্রিপ্ট থেকে প্রথম স্বাভাবিক টেক
টেলিপ্রম্পটারের জন্য স্ক্রিপ্ট সাজান, ঠিক স্ক্রল মোড ও গতি বেছে নিন, আর আপনার প্রথম স্বাভাবিক টেকটি রেকর্ড করুন।
এই গাইডে যা আছে
টেলিপ্রম্পটার অ্যাপ ব্যবহার করা কঠিন নয়: স্ক্রিপ্টটা ছোট ছোট লাইনে লিখুন, অ্যাপে পেস্ট করুন, ফোনটা চোখের উচ্চতায় বসান, স্ক্রল মোড আর গতি ঠিক করুন, একবার রিহার্সাল দিন, তারপর রেকর্ড চাপুন। সবচেয়ে জরুরি নিয়ম হলো, লেখাটা ক্যামেরার লেন্সের যত কাছে থাকবে, তত ভালো। তাহলে পড়ার সময়ও দর্শকের মনে হবে আপনি তাঁর চোখে চোখ রেখে কথা বলছেন।
নিচে প্রতিটি ধাপ বিস্তারিত দেওয়া হলো, যাতে আপনার প্রথম টেকটাই কাজে লাগানোর মতো হয়।
টেলিপ্রম্পটার কী, আর লেখা কেন লেন্সের কাছে থাকা দরকার
টেলিপ্রম্পটার হলো এমন একটা পর্দা, যেখানে আপনার স্ক্রিপ্ট ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে থাকে আর আপনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সেটা পড়েন। টিভির সংবাদ পাঠকেরা বহু বছর ধরে এভাবেই খবর পড়েন। ফোনে এই কাজটাই করে দেয় একটা অ্যাপ।
সমস্যা হয় তখন, যখন লেখা চলে স্ক্রিনের মাঝখানে বা নিচের দিকে। সামনের ক্যামেরা থাকে একদম ওপরে, তাই আপনার চোখ নিচে নামানো দেখায়, আর দর্শক সঙ্গে সঙ্গে বুঝে ফেলেন যে আপনি কিছু পড়ছেন। এজন্য এমন টেলিপ্রম্পটার অ্যাপ বেছে নিন, যেটা স্ক্রিপ্ট দেখায় ঠিক ক্যামেরার নিচে। Cameratel-এ স্ক্রিপ্ট স্ক্রল হয় স্ক্রিনের ওপরের অংশে, সামনের ক্যামেরার ঠিক নিচে। অ্যাপে দুটো মোড আছে: ভিডিও (শুধু ক্যামেরা) আর প্রম্পটার (ক্যামেরার সাথে স্ক্রিপ্ট)।
ধাপ ১: টেলিপ্রম্পটারের জন্য স্ক্রিপ্ট সাজান
বই বা চিঠির ভাষায় লেখা স্ক্রিপ্ট ক্যামেরায় ভারী শোনায়। চোখের জন্য নয়, কানের জন্য লিখুন:
- ছোট লাইন: এক লাইনে একটাই কথা। লম্বা বাক্য ভেঙে দুই ভাগ করুন।
- মুখের ভাষা: "উক্ত", "নিম্নলিখিত" জাতীয় শব্দের বদলে সেই শব্দগুলো লিখুন, যেগুলো বন্ধুর সাথে কথা বলার সময় বলেন।
[pause]মার্কার: যেখানে শ্বাস নেবেন বা কোনো কথায় জোর দেবেন, সেখানে[pause]লিখে দিন।#দিয়ে অংশ: লম্বা স্ক্রিপ্টে#দিয়ে নতুন অংশ শুরু করুন, তাহলে সবসময় বুঝবেন আপনি কোথায় আছেন।
তৈরি স্ক্রিপ্ট দেখতে মোটামুটি এমন হবে:
# শুরু হ্যালো, আমি রিয়া। আজ বলব, সকালের মাত্র ১০ মিনিটে কীভাবে সারাদিনের পরিকল্পনা করে ফেলা যায়। [pause] # প্রথম ধাপ রাতেই কালকের তিনটা জরুরি কাজ লিখে রাখুন। শুধু তিনটা, এর বেশি নয়। [pause] # দ্বিতীয় ধাপ সকালে সবার আগে সেই কাজটা শেষ করুন, যেটা আপনি সবচেয়ে বেশি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
অ্যাপের স্ক্রিপ্ট লাইব্রেরিতে স্ক্রিপ্ট লিখতে বা পেস্ট করতে পারবেন, লেখা ইমপোর্ট করতে পারবেন, কোনো স্ক্রিপ্টের কপি বানাতে আর খুঁজে নিতে পারবেন। প্রতিটি স্ক্রিপ্টের সাথে শব্দসংখ্যা আর আনুমানিক সময়কাল দেখা যায়, ফলে আগেই বোঝা যায় ভিডিওটা কত লম্বা হবে।
ধাপ ২: ঠিক স্ক্রল মোড বেছে নিন
সব পরিস্থিতিতে একই রকম স্ক্রল মানায় না। ভালো টেলিপ্রম্পটার অ্যাপে সাধারণত এই চারটা উপায় থাকে:
| স্ক্রল মোড | কীভাবে চলে | কখন বেছে নেবেন |
|---|---|---|
| স্বয়ংক্রিয় (অটো) | আপনার ঠিক করা একই গতিতে | স্ক্রিপ্ট ভালোভাবে জানা, ছন্দ একই রকম, বা ঘরে আওয়াজ বেশি |
| কণ্ঠ অনুসরণ | আপনার বলা শব্দ শুনে সাথে সাথে এগোয় | মাঝে থামেন, নিজের মতো করে বলেন বা কোনো লাইন বাদ দেন |
| কথা বলার সময় | শুধু কথা বলার সময় এগোয়, চুপ করলে থেমে যায় | কণ্ঠ চিনতে অসুবিধা হলে, যেমন বাংলা-ইংরেজি খুব মেশানো স্ক্রিপ্টে |
| ম্যানুয়াল | আঙুল, কীবোর্ড বা ব্লুটুথ রিমোট দিয়ে | কেউ পাশে বসে স্ক্রল সামলালে বা নিজের মতো গতি চাইলে |
প্রথমবারের জন্য কণ্ঠ অনুসরণ সবচেয়ে সহজ, কারণ গতি ঠিক করার ঝামেলাই থাকে না। এটা কীভাবে কাজ করে আর কখন অন্য মোড ভালো, তা জানতে পড়ুন ভয়েস টেলিপ্রম্পটারের গাইড।
ধাপ ৩: গতি, লেখার আকার ও প্রস্থ ঠিক করুন
স্বয়ংক্রিয় মোডে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটিং হলো গতি। একটা প্রচলিত হিসাব হলো, স্বাভাবিক কথোপকথনে মানুষ মিনিটে মোটামুটি ১৩০–১৬০টি শব্দ বলে, আর পড়ানোর সময় এর চেয়ে একটু ধীরে। ধীর গতি দিয়ে শুরু করুন, রিহার্সালে একটু একটু করে বাড়ান। পুরো হিসাব পাবেন টেলিপ্রম্পটারের গতি ও মিনিটে শব্দসংখ্যা লেখায়।
বাকি সেটিংসের জন্য এই নিয়মগুলো কাজে দেয়:
- লেখার আকার: এতটা বড়, যাতে এক হাত দূর থেকে চোখ কুঁচকে না পড়তে হয়।
- প্রস্থ: কলাম সরু রাখুন। লাইন যত চওড়া, চোখ তত ডানে-বাঁয়ে ঘোরে আর ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
- লাইনের ব্যবধান: একটু খোলা ব্যবধানে লাইন হারিয়ে ফেলার ভয় কমে।
- পড়ার নির্দেশক আর "পড়া শব্দ ম্লান করুন": এগুলো চালু থাকলে সবসময় বোঝা যায় আপনি কোন লাইনে আছেন।
- লেখার পটভূমি: স্ক্রিপ্টের পেছনে হালকা গাঢ় পর্দা থাকলে উজ্জ্বল আলোতেও পড়তে সুবিধা হয়।
ধাপ ৪: ফোনের দূরত্ব, উচ্চতা ও ফ্রেম
ফোনটা ট্রাইপড বা স্ট্যান্ডে রাখুন ঠিক চোখের উচ্চতায়। নিচ থেকে শুট করলে থুতনি আর নাক বেশি বড় দেখায়, ওপর থেকে করলে আপনাকে ছোট লাগে।
দূরত্বের জন্য এক হাত দিয়ে শুরু করুন, মোটামুটি ৫০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার। ফোন যত দূরে, পড়ার সময় চোখের নড়াচড়া তত কম চোখে পড়ে, শুধু লেখাটা একটু বড় করে নিতে হয়। ফ্রেমে মাথার ওপরে সামান্য ফাঁকা জায়গা রাখুন, আর চোখ দুটো রাখুন ফ্রেমের ওপরের এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি।
ধাপ ৫: আগে রিহার্সাল, তারপর রেকর্ড
সরাসরি রেকর্ড না করে আগে একবার পুরো স্ক্রিপ্ট জোরে জোরে পড়ুন। Cameratel-এ এর জন্য আলাদা কোনো বোতাম লাগে না: প্রম্পটারে ▶ (প্লে) চাপুন, আর রেকর্ড না চেপেই স্ক্রিপ্ট চালিয়ে পড়ুন। স্ক্রিপ্ট রেকর্ডিংয়ের মতোই স্ক্রল হয়, কিন্তু কিছুই রেকর্ড হয় না। যেখানে জিভ জড়িয়ে যায়, সেই শব্দটা স্ক্রিপ্টেই বদলে দিন।
এরপর রেকর্ড করুন এভাবে:
- কাউন্টডাউন চালু করুন, যাতে রেকর্ড চাপার পর গুছিয়ে নেওয়ার সময় পান।
- "রেকর্ডিংয়ের সাথে স্ক্রল শুরু করুন" চালু রাখুন, তাহলে স্ক্রিপ্ট আর ভিডিও একসাথে শুরু হবে।
- "স্ক্রিপ্ট শেষ হলে রেকর্ডিং থামান" বেছে নিন, যাতে শেষে ফোনের দিকে হাত বাড়াতে না হয়।
- ফোন দূরে থাকলে ভলিউম বোতাম বা ব্লুটুথ রিমোট দিয়ে রেকর্ডিং শুরু আর বন্ধ করুন।
- প্রথম লাইন বলার আগে এক মুহূর্ত লেন্সের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসুন।
মাঝপথে ভুল হলে ঘাবড়াবেন না। একটু থামুন, তারপর বাক্যটা আবার বলুন; এডিটিংয়ে ভুল অংশটা কেটে ফেলা যাবে। লম্বা বিরতি দরকার হলে রেকর্ডিং থামিয়ে পরে আবার চালু করুন, তবুও পুরোটা একটাই ভিডিও ফাইল থাকবে।
টেক রিপোর্ট দেখে পরের টেক আরও ভালো করুন
প্রতিটি টেক পুরোটা দেখুন, শুধু শুরুটা নয়। Cameratel প্রতিটি টেকের পর একটা টেক রিপোর্ট দেখায়: সময়কাল, কথা বলার গতি (মিনিটে শব্দ), চোখের সংযোগ স্কোর, আর স্ক্রিপ্টের কতটা আপনি পড়েছেন। গতি খুব বেশি হলে পরের টেকে [pause] বাড়ান। চোখের সংযোগ স্কোর কম হলে কলাম আরও সরু করুন বা ফোনটা একটু দূরে রাখুন।
নতুনদের ৫টি সাধারণ ভুল
- খুব দ্রুত স্ক্রল: লেখার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে কণ্ঠ একঘেয়ে হয়ে যায়। ধীর গতি দিয়ে শুরু করুন।
- স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করার চেষ্টা: টেলিপ্রম্পটার আছেই যাতে মুখস্থ করতে না হয়। প্রতিটি অংশের মানেটা বুঝে নিলেই যথেষ্ট।
- চওড়া লাইন: পুরো স্ক্রিন জুড়ে লাইন হলে চোখ ডানে-বাঁয়ে দৌড়ায়। কলাম সরু করুন।
- আলো পেছনে: জানালা পিঠের দিকে থাকলে মুখ কালো দেখায়। জানালার দিকে মুখ করে বসুন।
- প্রথম টেককেই শেষ ধরে নেওয়া: দ্বিতীয় বা তৃতীয় টেক প্রায় সবসময় ভালো হয়।
পড়ার সময়ও স্বাভাবিক দেখানোর আরও কৌশল আছে পড়ছেন বোঝা না যাওয়ার গাইড লেখায়। আর স্ক্রিপ্ট, ক্যামেরা আর ক্যাপশন এক জায়গায় চাইলে দেখে নিন Cameratel টেলিপ্রম্পটার ক্যামেরা কীভাবে কাজ করে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ফোনের সামনের ক্যামেরায় কি টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার করা যায়?
হ্যাঁ। ভালো টেলিপ্রম্পটার অ্যাপ স্ক্রিপ্টটা স্ক্রিনের ওপরের দিকে, সামনের ক্যামেরার ঠিক নিচে দেখায়, যাতে পড়ার সময়ও আপনার চোখ লেন্সের কাছাকাছি থাকে।
টেলিপ্রম্পটারের জন্য কি আলাদা রিগ বা দ্বিতীয় ফোন লাগে?
সেলফি ধাঁচের ভিডিওর জন্য লাগে না, একটা ফোনেই স্ক্রিপ্ট আর ক্যামেরা দুটোই চলে। কাচের বিম-স্প্লিটার রিগ দরকার হয় বড় ক্যামেরায় শুট করলে, তখন লেখা উল্টো করার অপশনটা কাজে লাগে।
প্রথমবার স্ক্রিপ্ট কত বড় রাখা উচিত?
৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের স্ক্রিপ্ট দিয়ে শুরু করুন, মোটামুটি ৭০ থেকে ১৫০ শব্দ। ছোট স্ক্রিপ্টে গতি আর দূরত্ব ঠিক করা সহজ হয়।
টেলিপ্রম্পটার অ্যাপে কি বাংলা স্ক্রিপ্ট চলে?
হ্যাঁ, ইউনিকোডে লেখা বাংলা স্ক্রিপ্ট ঠিকঠাক দেখা যায়। Cameratel-এর ইন্টারফেসও বাংলায় আছে, আর কণ্ঠ অনুসরণের জন্য সেটিংসে কণ্ঠের ভাষা বেছে নেওয়া যায়।